• রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শব্দের অন্তরাল থেকে আলোর অভিযাত্রা : কবি পারুল আক্তার পান্নার কাব্যভুবন ডোমার কেতকীবাড়ীতে চলাচলের রাস্তা বন্ধের জেরে বাবা ও ছেলেকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ ১২ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবুজ পৃথিবী গড়তে রংপুরের বেতগাড়ীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ সীমান্তে হত্যা ও পুশ-ইন বন্ধের দাবিতে চিলাহাটিতে ১১ দলের প্রতিবাদ সমাবেশ মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়তে মাঠে নেমেছে ডোমার থানা পুলিশ: ডোমারের কেতকীবাড়ীতে পুলিশের ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত সবুজ আগামীর প্রত্যাশায় পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু দিনাজপুরের বীরগঞ্জে টিনের দরজায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আদিবাসী নারীর মৃত্যু গংগাচড়ায় ইয়াবা ও হিরোইনসহ আটক মাদক ব্যবসায়ী, কারাদণ্ড প্রদান

ডোমার কেতকীবাড়ীতে চলাচলের রাস্তা বন্ধের জেরে বাবা ও ছেলেকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

আনিছুর রহমান মানিক, সিনিয়র রিপোর্টার। ডোমার (নীলফামারী)
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গোলাবাড়ী গ্রামে এক বেদনাদায়ক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেশী দুই পক্ষের মধ্যে জমি সংক্রান্ত পুরনো বিরোধের জেরে একটি পরিবারের চলাচলের একমাত্র পথটি বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রতিপক্ষের উপর্যুপরি আঘাতে শেষ পর্যন্ত হাসপাতালের বিছানায় ঠাঁই হয়েছে এক বাবা ও তার সন্তানের। বর্তমানে তারা ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতরা হলেন স্থানীয় বাসিন্দা মোজাফ্ফর রহমানের ছেলে বুলবুল ইসলাম এবং তার তরুণ ছেলে সাগর আলী।

বুলবুল ইসলামের পরিবারের সদস্য এবং ডোমার থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগের বিবরণ থেকে জানা যায়, গোলাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলীর ছেলে দুলাল হোসেন এবং মৃত জসিয়ার রহমানের দুই ছেলে আনোয়ার হোসেন ও আতিকুর রহমানের সাথে প্রতিবেশী বুলবুল ইসলাম ও তার ভাই সাবুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে আদালতে মামলা-মোকদ্দমাও চলছে। গত বুধবার ১০ই জুন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে এই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। ওই সময় দুলাল হোসেন, আনোয়ার হোসেন ও আতিকুর রহমান দলবদ্ধ হয়ে বুলবুল ও সাবুলদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র চলাচলের রাস্তাটিতে জোরপূর্বক বেড়াচাটি দিয়ে অবরুদ্ধ করে ফেলে।

নিজের এবং পরিবারের স্বাভাবিক যাতায়াতের পথ এভাবে বন্ধ হতে দেখে বুলবুল ইসলাম সেখানে এগিয়ে যান এবং প্রতিপক্ষকে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযোগ উঠেছে, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন বুলবুল ইসলামের ওপর চড়াও হয় এবং তাকে বেধরক মারপিট করতে শুরু করে। ঘর থেকে বাবার আর্তচিৎকার এবং মারধরের দৃশ্য দেখে তাকে বাঁচাতে দ্রুত ছুটে আসে তার বাইশ বছর বয়সী ছেলে সাগর আলী। কিন্তু হামলাকারীরা এতটাই উত্তেজিত ছিল যে তারা এগিয়ে আসা সাগর আলীকেও রেহাই দেয়নি। দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি আঘাতে সাগর আলীও গুরুতরভাবে আহত হন।

রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় বাবা-ছেলে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাদের ভর্তি করা হয়। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার অভাব বোধ করছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। ঘটনার পর বুলবুল ইসলামের ছোট ভাই সাবুল ইসলাম বাদী হয়ে অভিযুক্ত ৫ জনের নাম উল্লেখ করে ডোমার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তদের একজন লায়লা আক্তার মারপিটের ঘটনার সত্যতা আংশিক স্বীকার করেছেন। তবে নিজের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি জানান যে, অপর পক্ষই প্রথমে তাদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেছিল এবং নিজেদের আত্মরক্ষার্থেই তারা পাল্টা আঘাত করেছেন।

এদিকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ডোমার থানার তৎপরতা শুরু হয়েছে। থানার সাব ইন্সপেক্টর অমিত কুমার ও তার সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করছেন। ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাবিবুল্লাহ লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতে নির্যাতনের শিকার বুলবুল ইসলামের পরিবার দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি আস্থা রেখে সঠিক ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেছেন। সেই সাথে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এভাবে পথ আটকে বর্বরোচিত হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন তারা, যেন ভবিষ্যতে গ্রামীণ জনপদে এমন অমানবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।


More News Of This Category