নীলফামারীর ডোমার উপজেলার কেতকীবাড়ী ইউনিয়নে পাওনা টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করে এক অপ্রীতিকর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় সাবেক এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর কেতকীবাড়ী নামাজী পাড়া গ্রামে। তুচ্ছ ঘটনা থেকে সৃষ্ট এই মারপিটের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ডোমার থানার মামলা সুত্রে জানা গেছে, সাবেক ইউপি সদস্য মোতাহার হোসেনের ছেলের সাথে এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে সেলিমের পাওনা টাকা লেনদেনের বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯শে মে শুক্রবার সন্ধ্যায় এক বিয়োগান্তক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেলিমের পিতা রফিকুল ইসলাম চিলাহাটি বাজার থেকে নিজ বাড়ি ফেরার পথে কেতকীবাড়ী গোলাবাড়ী ব্রিজের কাছে পৌঁছালে পূর্ব শত্রুতার জেরে হামলা চালানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, মোতাহার হোসেন, তার ছেলে ছাইয়াদুল, ভাই আশরাফুল এবং দুলুসহ তাদের দলবল মিলে রফিকুলকে বেধড়ক মারধর করে।
এই সময় নিজ পিতাকে রক্ষা করতে ছেলে সিফাত, সেলিম এবং পুত্রবধু সুমনা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও নির্মমভাবে চড়াও হয় প্রতিপক্ষরা। এতে তারাও গুরুতর আহত হন। তাদের ওপর এই অনাকাঙ্ক্ষিত নির্যাতনের ফলে রফিকুল এবং সেলিম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার জন্য ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও বিচার চেয়ে রফিকুলের স্ত্রী রহিমা খাতুন বাদী হয়ে ডোমার থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। মামলায় সাবেক ইউপি সদস্য মোতাহার হোসেনকে প্রধান আসামী করে মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ই জুন শুক্রবার বিকেলে ডোমার থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ১নং আসামী সাবেক ইউপি সদস্য মোতাহার হোসেনকে তার নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
অবশ্য মারপিটের এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মোতাহার হোসেন, আশরাফুল ও দুলু মিয়া। তাদের দাবি, ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে আপোষ মিমাংসার চেষ্টা করে তারা ব্যর্থ হয়েছেন এবং তাদের অন্যায়ভাবে জড়ানো হচ্ছে। ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাবিবুল্লাহ সাবেক ইউপি সদস্যের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীকে ইতিমধ্যেই জেলার বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনাটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।