• রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বেনাপোল ইমিগ্রেশনে কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযান: যাত্রীর শরীরে মিলল ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার স্বর্ণ শার্শার রুদ্রপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ৫৫০ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার খগাখড়িবাড়ীর রাজনীতিতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন এবং স্থানীয়দের মূল্যায়নের বিশ্লেষণ বীরগঞ্জে টিএমএসএস করিমপুর ফাতেমাতুজ জোহরা হাসপাতালের সৌজন্যে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ লক্ষ্যমাত্রায় বেনাপোল পৌরসভায় বিএনপির উদ্যোগ নীলফামারী ও গাইবান্ধায় এসআরবি-১৩-এর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার বেনাপোলে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরের উদ্যোগে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চেকপোস্টে চারা রোপণ দীর্ঘ সাহিত্যসাধনার প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি: বাংলা একাডেমির সদস্য হলেন লিডসপ্রবাসী কবি ও কথাসাহিত্যিক আহমেদ সৈয়দ শাহনুর বীরগঞ্জে পুলিশের জোরালো অভিযানে আটক ৯ জন, বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান পলাশবাড়ীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ওয়ান শুটারগান ও গুলি উদ্ধার করেছে এসআরবি-১৩

বীরগঞ্জের ৫ হিমাগারে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা আদায়, ক্ষুব্ধ কৃষক ও ব্যবসায়ী

মোশাররফ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার (বীরগঞ্জ) দিনাজপুর
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: দিনাজপুরের বীরগঞ্জে হিমাগার বা কোল্ড স্টোরেজগুলোতে আলু সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এই অন্যায়ের প্রতিবাদে ফুঁসছে স্থানীয় কৃষক, শ্রমিক ও আলু ব্যবসায়ীরা। ঘাম ঝরানো ফসলের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে একযোগে তুমুল আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। হিমাগার মালিকদের এমন স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সাধারণ কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বিক্ষোভের আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ আমলে নিতে নারাজ।

জানা গেছে, ২৫ মাইলের সততা বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী নুর ইসলামসহ অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি ভাড়া দিতে রাজি নন। কিন্তু দলুয়া এলাকার শাহী হিমাগার-২ কর্তৃপক্ষ কৃষক ও ব্যবসায়ীদের রীতিমতো জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। সততা বাণিজ্যালয়সহ অনেক গ্রাহকের কাছ থেকেই প্রতি বস্তা আলুর ভাড়া ৪২০ টাকা হারে রশিদের মাধ্যমে আদায় করা হচ্ছে। বীরগঞ্জের দলুয়া শাহী হিমাগার-২ সহ অন্যান্য হিমাগারেও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রতি বস্তায় গড়ে ৬০ টাকা হারে বাড়তি অর্থ আদায় করা হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য একরকম মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট আলু সংরক্ষণের জন্য সরকার প্রতি কেজি আলুর ভাড়া ৬ টাকা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। সেই হিসাব অনুযায়ী প্রতি ৬০ কেজি বস্তার ভাড়া হওয়ার কথা ৩৬০ টাকা। অথচ সেখানে আদায় করা হচ্ছে ৪২০ টাকা পর্যন্ত। সরকারি প্রজ্ঞাপনকে রীতিমতো বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এমন প্রকাশ্য প্রতারণা চললেও প্রশাসনের নীরবতা সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

৯ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে অনুসন্ধান করে জানা যায়, বীরগঞ্জের শাহী হিমাগার দলুয়া, শাহী হিমাগার হাবলুহাট, চাকাই এলাকার হিমাদ্রি লিমিটেড, বটতলীর রাহবার এবং দলুয়ার দেওয়ানবাড়ী কোল্ড স্টোরেজ মিলে মোট ৫টি হিমাগারে প্রায় ১২ লাখ ১৬ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, সরকার নির্ধারিত মূল ভাড়ার বাইরে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে হিমাগার মালিকরা অবৈধভাবে ৭ কোটি ২৯ লাখ ৬ হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায় করেছেন। এত বড় অংকের অর্থ সাধারণ কৃষকের পকেট থেকে কেড়ে নেওয়া হলেও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সরেজমিনে শাহী হিমাগার-২ এ গেলে ম্যানেজার মনির হোসেন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেনকে পাওয়া যায়নি। একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি। তবে ওই কোল্ড স্টোরেজে কর্মরত হিসাবরক্ষক সামিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে অতিরিক্ত আদায় করা টাকা গ্রাহকদের ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং প্রাপ্তিস্বীকার ফরমে স্বাক্ষর নিয়ে প্রতি বস্তায় ৩০ টাকা হারে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে শাহী হিমাগার হাবলুহাটের ম্যানেজার হিরুকেও কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি।

 

দেওয়ানবাড়ী কোল্ড স্টোরেজ দলুয়ার ম্যানেজার ফাহিম হোসেন, বটতলীর রাহবার কোল্ড স্টোরেজের ম্যানেজার রুবেল ইসলাম এবং চাকাই হিমাদ্রি কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ম্যানেজার নুরন্নবী জানান, শুরু থেকেই এখন পর্যন্ত ৩৯০ টাকা হারে রশিদের মাধ্যমে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে এবং এটি তাদের মালিক পক্ষের সুস্পষ্ট নির্দেশ।

 

এ বিষয়ে মালিকদের পক্ষ থেকে দেওয়ানবাড়ি কোল্ড স্টোরেজের মোহাম্মদ কামাল হোসেনের সাথে মুঠোফোনে কথা বলা হলে তিনি দাবি করেন, সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির আগেই বীরগঞ্জের কোল্ড স্টোরেজগুলোর মালিকরা স্থানীয়ভাবে প্রতি বস্তা ৩৯০ টাকা ভাড়া নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই বর্তমানে কাজ চলছে। তিনি উল্টো দাবি করে বলেন, বীরগঞ্জের চেয়ে অন্যান্য জায়গায় ভাড়া আরও বেশি নেওয়া হচ্ছে, যা খোঁজ নিলেই জানা যাবে।

 

তবে এ ব্যাপারে জেলা সিনিয়র অফিসার কৃষি বিপণন রবিউল হাসান জানিয়েছেন, তারা অভিযোগ পেয়েছেন এবং ইতিমধ্যে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে বীরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে সহকারী কমিশনার ভূমি বীরগঞ্জ জানিয়েছেন, বিষয়টি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখবেন।

 

এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839


এরকম আরও সংবাদ