• রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বেনাপোল ইমিগ্রেশনে কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযান: যাত্রীর শরীরে মিলল ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার স্বর্ণ শার্শার রুদ্রপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ৫৫০ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার খগাখড়িবাড়ীর রাজনীতিতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন এবং স্থানীয়দের মূল্যায়নের বিশ্লেষণ বীরগঞ্জে টিএমএসএস করিমপুর ফাতেমাতুজ জোহরা হাসপাতালের সৌজন্যে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ লক্ষ্যমাত্রায় বেনাপোল পৌরসভায় বিএনপির উদ্যোগ নীলফামারী ও গাইবান্ধায় এসআরবি-১৩-এর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার বেনাপোলে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরের উদ্যোগে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চেকপোস্টে চারা রোপণ দীর্ঘ সাহিত্যসাধনার প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি: বাংলা একাডেমির সদস্য হলেন লিডসপ্রবাসী কবি ও কথাসাহিত্যিক আহমেদ সৈয়দ শাহনুর বীরগঞ্জে পুলিশের জোরালো অভিযানে আটক ৯ জন, বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান পলাশবাড়ীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ওয়ান শুটারগান ও গুলি উদ্ধার করেছে এসআরবি-১৩

ডিমলা-নাউতারা সড়কে বেহাল দশা ও সীমাহীন দুর্ভোগ, দ্রুত সংস্কারের দাবি হাজারো মানুষের

রাহেনা বারী আয়না, স্টাফ রিপোর্টার (ডিমলা) নীলফামারী
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: রাস্তা আছে, কিন্তু নেই স্বাভাবিক চলাচলের পথ। কোথাও পিচ উঠে গিয়ে বেরিয়ে পড়েছে ইটের খোয়া, কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। আবার কোথাও গর্তে জমে থাকা কাদা-পানিতে বোঝার উপায় নেই এটি এক সময় পাকা সড়ক ছিল। পাশাপাশি দুটি যানবাহন চলাচল করাও অনেক জায়গায় কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিয়েই গন্তব্যে যেতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। এটি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিমলা থেকে নাউতারা সড়কের সর্দারহাট থেকে নাউতারা পর্যন্ত অংশের চিত্র। খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও নাউতারা ইউনিয়নের মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে।

 

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সড়কটি এখন শুধু মানচিত্রে আছে, বাস্তবে এটি যেন এক অসীম দুর্ভোগের পথ। ডিমলা সর্দারহাট চৌপতি থেকে সোনামণির ডাঙ্গা ইউপি ভবন পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে। কোথাও পিচের অস্তিত্ব নেই, বেরিয়ে এসেছে ইটের খোয়া। দীর্ঘদিনের ক্ষয়ক্ষতিতে অনেক অংশ পরিণত হয়েছে মাটির সড়কে। সড়কের দুই পাশে ও মাঝখানে তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। বর্ষায় এসব গর্তে পানি ও কাদা জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় অটোরিকশা, ভ্যান, রিকশা ও মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহনগুলোকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হচ্ছে। সামান্য অসতর্ক হলেই গর্তে পড়ে ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। আবার কোথাও বিকল হয়ে পড়ে থাকছে যানবাহন। ভারী যান চলাচলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো আরও নাজুক হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

শুধু সর্দারহাট থেকে নাউতারা নয়, ডিমলা-নাউতারা-খালিশা চাপানি সড়কের বিভিন্ন অংশেই চলাচলের পরিবেশ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে বুড়িরহাট থেকে নাউতারা বাজারের চৌপতি পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কে দায়সারা সংস্কার করা হলেও সেই কাজের স্থায়িত্ব ও মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। খালিশা চাপানি, ঝুনাগাছ চাপানী ও নাউতারা ইউনিয়নের মানুষের উপজেলা সদরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়রা জানান, সড়কটি এড়িয়ে বিকল্প পথে যেতে হলে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হয়। এতে সময় যেমন বেশি লাগে, তেমনি বেড়ে যায় যাতায়াতের খরচ।

 

সবচেয়ে বেশি বিপদে ও সমস্যায় পড়ছেন অসুস্থ রোগী ও তাদের স্বজনেরা। জরুরি অবস্থায় রোগী নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার সময় যানবাহনের স্বাভাবিক গতি রাখা সম্ভব হয় না। গর্ত ও খানাখন্দে ঝাঁকুনির কারণে রোগীর শারীরিক কষ্ট আরও বেড়ে যায়। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। বর্ষায় কাদা-পানি আর শুকনো মৌসুমে ধুলা ও খানাখন্দ পেরিয়েই তাদের বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াত করতে হয়।

 

নাউতারা বাজারকে কেন্দ্র করে এ সড়কে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন হয়। রংপুর, জলঢাকা, সৈয়দপুর, নীলফামারী, ডোমার ও ডিমলা উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে পণ্য আসে এবং এখান থেকে বিভিন্ন এলাকায় যায়। কিন্তু সড়কের এমন বেহাল অবস্থায় পরিবহন ব্যবস্থা ভীষণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষাকালে কাদা-পানিতে গর্তগুলো আরও ভয়ংকর রূপ নেয়। এতে মাঝপথে ট্রাক, ভ্যান ও অটোরিকশা বিকল হয়ে পড়ার ঘটনা নিত্যদিনের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মজিদ, আব্দুল লতিফ, ওমর ফারুকসহ অনেকে জানান, উৎপাদিত কৃষিপণ্য নাউতারা বাজার কিংবা উপজেলা সদরের বিভিন্ন হাটবাজারে নিতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে সময়মতো পণ্য বাজারে নেওয়া যায় না। ভ্যানচালকেরা অনেক সময় এ পথে যেতেই চান না। আর কেউ রাজি হলেও দাবি করেন অতিরিক্ত ভাড়া।

 

নাউতারা ইউনিয়নের সোনামণির ডাঙ্গা গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি এমন অবহেলায় পড়ে আছে। কোথাও গভীর খানাখন্দ, আবার কোথাও ঢিবির মতো উঁচু-নিচু। বর্ষাকালে কাদা-পানি জমে গেলে পরিস্থিতি আরও সহ্যের বাইরে চলে যায়। তাদের ক্ষোভ ও অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এমন দুর্ভোগ চললেও স্থায়ী সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। নাউতারা এলাকার বাসিন্দারা জানান, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও নাউতারা ইউনিয়নের মানুষের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথে চলাচল করেন। তাই দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার তীব্র দাবি জানান তারা।

 

এই বিষয়ে নাউতারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আশিক ইমতিয়াজ মোর্শেদ মনি বলেন, সড়কটির অচল অবস্থা তিনি নিজেও লক্ষ্য করেছেন। এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে মানুষ প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বিষয়টির সমাধান তাঁর এখতিয়ারের বাইরে হওয়ায় সড়কটি সংস্কারের বিষয়ে স্থানীয় এলজিইডির প্রকৌশলীর সঙ্গে তিনি একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন। প্রকৌশল দপ্তর থেকে তাঁকে জানানো হয়েছে যে, সড়কটি সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

 

সড়কটির বিষয়ে এলজিইডির ডিমলা উপজেলা প্রকৌশলী মো. মফিজুর রহমান জানান, সড়কটি সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদন পাওয়া গেলেই দ্রুত সড়কটি মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।

 

তবে স্থানীয় ভুক্তভোগী মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন, প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হলেও সেটির অনুমোদন ও বাস্তবায়ন শেষ পর্যন্ত কবে হবে। তাদের মতে, সড়কটি শুধু একটি ইউনিয়ন বা কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগের পথ নয়, এর সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে আছে মুমূর্ষু রোগীর জীবন, শিক্ষার্থীর নিরাপদ যাতায়াত, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক বাজারজাতকরণ এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি। তাই কোনো ধরনের দীর্ঘসূত্রতা নয়, দ্রুততম সময়ে সংস্কারের মাধ্যমে সড়কটিকে মানুষের চলাচলের উপযোগ করে তোলার জোরালো দাবি তাদের। স্থানীয় সাধারণ মানুষের একমাত্র প্রত্যাশা, প্রকল্পের কাগজপত্র যেন আর অযথা অপেক্ষার কারণ না হয়, দ্রুত বাস্তবায়ন হোক সড়ক সংস্কারের কাজ এবং বন্ধ হোক প্রতিদিনের এই জীবনের ঝুঁকির যাত্রা।

 

এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839


এরকম আরও সংবাদ