• বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
দিনাজপুরে শিশু নিহতের ঘটনায় প্রধান আসামি এসআরবি-১৩ এর অভিযানে গ্রেফতার গঙ্গাচড়ায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত, আগাম প্রস্তুতির ওপর জোর শার্শায় ৮০ পিস ইয়াবাসহ ডিবি পুলিশের হাতে এক মাদক কারবারি আটক ডোমারে টানটান উত্তেজনার মিনিবার ফুটবলে নাদিয়া ওয়ারিয়াস চ্যাম্পিয়ন বীরগঞ্জ সরকারি কলেজের দৃষ্টি নন্দন প্রধান ফটক উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু বুড়িচংয়ে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষ্যে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রংপুরে এসএসসি পরীক্ষার্থী কিশোরী অপহরণ মামলার প্রধান আসামি সাভার থেকে গ্রেফতার গংগাচড়ায় শিক্ষক মারুফা আক্তার ময়নার আবেগঘন বিদায় ও প্রদীপ কুমার রায়কে বরণ গংগাচড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে দৈনিক সংবাদ দিগন্তের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত পঞ্চগড়ে বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে কঠোর বার্তা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ

টাকা তো দেবেই না, ধন্যবাদও দেবে না? সাবেক মন্ত্রী সামাদ আজাদ

আই জামান চমক, ঢাকা
মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

 

আই জামান চমক: ভরা বর্ষায় যখন পদ্মার বুকে ঢেউ ওঠে, জেলেরা জাল ফেলে আবার ঘরে ফেরে, তখন কেউ নদীকে ধন্যবাদ দেয় না। ধরেই নেওয়া হয়, নদী তো দেবেই। মাছ দেবে, জল দেবে, পথ দেবে। এই নেওয়াটুকু এখন মানুষের স্বভাবে ঢুকে গেছে।

অনেক বছর আগের একটি গল্প মনে পড়ছে। তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ। তাঁর কক্ষে এসেছেন ভূঞাপুর পৌরসভার মেয়র আমিরুল ইসলাম তালুকদার, সবার পরিচিত বিদ্যুৎ ভাই। দরকার একটি আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি লাইসেন্স। মন্ত্রী সাহায্য করলেন। লাইসেন্স পাওয়া গেল। বিদ্যুৎ ভাই কাজ সেরে কক্ষ থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন। তখনই মন্ত্রী সামাদ আজাদ পেছন থেকে ডাকলেন। বললেন, “বিদ্যুৎ! টাকা তো দেবেই না। ধন্যবাদও দেবে না?”

এই একটি বাক্যের ভেতরে একটি পুরো সমাজের প্রতিচ্ছবি। মন্ত্রী ঘুষ চাননি। চেয়েছিলেন দুটো সামান্য কথা। আন্তরিকভাবে বলা একটুকু কৃতজ্ঞতা। সেটুকুও হয়নি।

আজকের দিনে এই ঘটনা আর ব্যতিক্রম নয়। এটাই নিয়ম হয়ে গেছে।

ডিজিটাল যুগ বলা হয় এই সময়কে। হাতের মুঠোয় পৃথিবী। এক ক্লিকে যোগাযোগ, এক মেসেজে সম্পর্ক, এক ইমোজিতে আবেগ। কিন্তু এত সহজলভ্যতার ভিড়ে সবচেয়ে পুরনো, সবচেয়ে সহজ একটি অভ্যাস আমরা হারিয়ে ফেলেছি। কারো কাছ থেকে কিছু পেলে বলা, “ধন্যবাদ।”

আজকাল মানুষ সাধারণ সৌজন্যতাটুকুও ভুলে বসতে যাচ্ছে।

অফিসে সহকর্মী সাহায্য করলেন, “ওকে” বলে চলে যাওয়া হয়। প্রতিবেশী বিপদে এলেন, কাজ হয়ে গেলে আর খোঁজ নেই। বড় ভাই টাকা ধার দিলেন, শোধের দিন মনে থাকে, কৃতজ্ঞতার কথা মনে থাকে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ শেয়ার করলেন, লাইক দিলাম, ধন্যবাদটা জানানো হলো না।

রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ। আমি বলব, মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা হারানোও কম পাপ নয়। কারণ কৃতজ্ঞতা শুধু ভদ্রতার আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি মানুষের ভেতরের মনুষ্যত্বের স্বীকারোক্তি। আমি তোমার কাছে ঋণী, এই স্বীকারোক্তিই আমাকে মানুষ করে রাখে।

সামাদ আজাদের সেই মন্তব্য বিদ্যুৎ ভাইকে লজ্জা দিয়েছিল কিনা জানি না। তবে যিনি শুনেছেন, যিনি মনে রেখেছেন, তিনি নিশ্চয়ই নিজেকে বদলে নিয়েছেন।

প্রশ্ন হলো, আমরা কি নিজেদের বদলাব? নাকি নদীর কাছ থেকে নিতে নিতে একদিন নদীটাও শুকিয়ে ফেলব?

মানুষ মানুষের কাছ থেকে পায়। এটাই জীবন। কিন্তু পাওয়াটাকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়ার মধ্যে একটা অহংকার আছে। সেই অহংকারটুকু না ছাড়লে একদিন কেউ আর কিছু দিতে আসবে না। ভূঞাপুরের মেয়র হোন বা ঢাকার মন্ত্রী, এই সত্য সবার জন্য সমান।

আজ কারো কাছ থেকে কিছু পেয়েছেন? একটু থামুন। দুটো কথা বলুন। শুধু বলুন, “ধন্যবাদ।”

এতটুকুই যথেষ্ট।

লেখক: সাংবাদিক, কবি, কথাসাহিত্যিক, আবৃত্তিকার ও বাচিক শিল্পী। হোয়াটসঅ্যাপ: 01718456839


এরকম আরও সংবাদ