রংপুরের গঙ্গাচড়ায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে মৎস্যচাষী ও জেলেদের উপস্থিতি ছিল সীমিত। অনুষ্ঠানে অতিথিদের নিয়ে আনুষ্ঠানিকতা, বক্তব্য ও বিভিন্ন কর্মসূচি চললেও নির্ধারিত আসনের বড় একটি অংশই ছিল ফাঁকা। আরও বিস্ময়কর, উপজেলার অনেক মৎস্যচাষী জানিয়েছেন, তাঁদের ঘিরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে এমন আয়োজন হচ্ছে,এ খবরই তাঁরা আগে জানতেন না।
ফলে মাঠপর্যায়ের মৎস্যচাষীদের অংশগ্রহণ ও সম্পৃক্ততা নিশ্চিত না করে আয়োজনটি অনেকটা আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় মৎস্যচাষীদের অভিযোগ, জাতীয় মৎস্য পক্ষের মতো কর্মসূচিতে আধুনিক মাছ চাষ, রোগবালাই প্রতিরোধ, উৎপাদন বৃদ্ধি ও মৎস্যচাষের নানা বিষয়ে পরামর্শ ও সচেতনতামূলক আলোচনা হওয়ার কথা। একই সঙ্গে প্রকৃত চাষীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করারও প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু তাঁদের অনেককেই কর্মসূচির বিষয়ে জানানো হয়নি।
স্থানীয় মৎস্যচাষী মিলন দাস বলেন, ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষের অনুষ্ঠান হচ্ছে, এমন খবর আমরা আগে জানতাম না। আমাদের জানানো হলে আমরা অবশ্যই অংশ নিতাম।’
সফল মৎস্যচাষী নুরুন্নবী বলেন, ‘মাছ চাষের সঙ্গে আমরা সরাসরি জড়িত। অথচ এমন কর্মসূচিতে আমাদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে না। শুধু অনুষ্ঠান করলেই তো মৎস্যচাষিদের উপকার হবে না।’
নোহালী এলাকার মৎস্যচাষী আশরাফুল বলেন, ‘মৎস্যচাষিদের নিয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিলে আমরা উপকৃত হতাম। কিন্তু আয়োজনের খবরই যদি না পাই, তাহলে অংশগ্রহণ করব কীভাবে?’
অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, অতিথিদের জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে এবং নির্ধারিত আসনের বড় একটি অংশ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। উপস্থিতির এই চিত্র কর্মসূচির প্রচার, অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং প্রকৃত মৎস্যচাষীদের সম্পৃক্ততা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্দেশ্য শুধু আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান আয়োজন নয়; বরং মৎস্য খাতের সঙ্গে যুক্ত মানুষকে সচেতন করা, তাঁদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও চাষপদ্ধতির সঙ্গে তাঁদের পরিচিত করা। সেখানে মাঠের মৎস্যচাষীরাই যদি কর্মসূচির খবর না পান, তাহলে এর জনসম্পৃক্ততা ও কার্যকারিতা কতটা নিশ্চিত করা গেছে, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার বলেন, ‘আমি প্রচার করেছি। তবে উপস্থিতি কম ছিল, এটা ঠিক।’
উপজেলার বড়পিটে কতজন মৎস্যচাষী আছেন কিংবা উপজেলায় মোট কতজন মৎস্যচাষী রয়েছেন,এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটি জানা নেই।’
প্রচার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দাবি থাকলেও প্রকৃত মৎস্যচাষীদের বড় একটি অংশ কর্মসূচির খবর না পাওয়ার অভিযোগ করায় প্রচারের ধরন ও পরিধি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মৎস্যচাষীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করে শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্যেই জাতীয় মৎস্য পক্ষ সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি মাঠপর্যায়ের চাষীদের কাছে এর সুফল পৌঁছাবে,এখন সেটিই দেখার বিষয়।