রংপুর মহানগরীর নিশবেতগঞ্জ নূরানী হিফজুল কুরআন মাদ্রাসায় পরীক্ষার ফি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত ছাত্রের মা মোছা. মৌসুমী আক্তার পলি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হাজীরহাট থানায় অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মেহেদী হাসান আজাদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, রংপুর মহানগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিশবেতগঞ্জ নূরানী হিফজুল কুরআন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মো. ময়নুল হাসান মুনকে উক্ত শিক্ষক ইতিপূর্বেও একাধিকবার বেত্রাঘাতসহ বিভিন্নভাবে শারীরিক নির্যাতন করেছেন। বারবার মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি সম্পর্কে জানানো হলেও অভিভাবক পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট পরীক্ষার ফি সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে ময়নুলকে বাড়িতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সে ফি নিয়ে মাদ্রাসায় ফিরে আসে। তবে সেই সময় শিক্ষককে উপস্থিত না পেয়ে সে ঘুমিয়ে পড়ে। পরীক্ষার ফি জমা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় পরবর্তীতে তাকে নিয়ে এক ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে ক্লাস চলাকালে কোনো প্রকার জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই ময়নুলকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তার মা। প্রথমে তাকে চড়-থাপ্পড় মারা হয় এবং পরবর্তীতে কাঁচা বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়।
মৌসুমী আক্তার পলি জানান, বাঁশের কঞ্চির আঘাতের ফলে তার ছেলের বাম হাতের কনুইয়ের ওপরের অংশ গভীরভাবে কেটে যায় এবং রক্তাক্ত জখম হয়। পরে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে জখমপ্রাপ্ত স্থানে পাঁচটি সেলাই দিতে হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালশিরা ও কাটার দাগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, নির্যাতনের পরপরই পরীক্ষার ফি এর টাকা বুঝে নেওয়া হলেও আঘাতপ্রাপ্ত ছাত্রের চিকিৎসার কোনো উদ্যোগ নেয়নি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। উল্টো তাকে চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে মাদ্রাসার ভেতরে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সন্ধ্যার দিকে মাদ্রাসায় গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।
আহত ছাত্রের মা বলেন, এর আগেও একাধিকবার তার ছেলেকে অহেতুক মারধর করা হয়েছে। তৎকালীন সময়ে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এ ধরনের বিয়োগান্তক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। তিনি পুরো ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ দায়েরের পর থেকে শিক্ষক মো. মেহেদী হাসান আজাদ মাদ্রাসায় উপস্থিত হননি এবং তিনি পলাতক রয়েছেন বলে পরিবার দাবি করেছে। এই বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।