দিনাজপুরের বীরগঞ্জে মডেল মসজিদে একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে ইমাম হিসেবে নিয়োগের উদ্যোগের প্রতিবাদে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় ইসলামপ্রিয় তৌহিদী জনতা। ১৫ আগস্ট শনিবার বিকেলে বীরগঞ্জ শহীদ মিনার চত্বরে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বীরগঞ্জের ইসলামপ্রিয় সচেতন মহলের ব্যানারে আয়োজিত এই মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন মাওলানা মোহাম্মদ মুতাসসিম বিল্লাহ। এতে এলাকার স্থানীয় আলেম-ওলামা, মাশায়েখ, সাধারণ মুসল্লি এবং নানা শ্রেণি-পেশার সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, গত ৫ আগস্ট থানা মসজিদ থেকে পালিয়ে যাওয়া বিতর্কিত ব্যক্তি মতিউর রহমানকে বীরগঞ্জ মডেল মসজিদের ইমাম হিসেবে নতুন করে নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। আয়োজকদের দাবি, যার বিরুদ্ধে নানা ধরণের অনৈতিক আচরণ এবং গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাকে এমন একটি সম্মানজনক ও স্পর্শকাতর পদে বসানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি ইসলামের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাতের শামিল।

মানববন্ধনে প্রদর্শিত ব্যানারে অভিযুক্ত মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে শিশু নিপীড়নসহ একাধিক মারাত্মক অভিযোগের বিষয় তুলে ধরা হয়। প্রতিবাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, মডেল মসজিদের মতো কেন্দ্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে ইমাম নিয়োগের আগে প্রার্থীর ব্যক্তিগত চরিত্র, নৈতিক যোগ্যতা, আচরণ এবং পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ড সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করা অত্যন্ত জরুরি। একজন প্রশ্নবিদ্ধ মানুষকে এমন পবিত্র স্থানে স্থান দেওয়া হলে তা সমাজের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করবে।
বীরগঞ্জের সচেতন নাগরিক ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা বীরগঞ্জ মডেল মসজিদের নিয়োগ প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করে পুরো বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখার জন্য জোর দাবি জানান। একই সাথে তারা একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিকে ইমাম পদে নিয়োগের আহ্বান জানান। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কর্তৃপক্ষ যদি এসব অভিযোগ গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে আগামী দিনে এই অসন্তোষ আরও বড় ধরনের গণআন্দোলনে রূপ নিতে পারে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যেন বিষয়টি দ্রুত আমলে নিয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, মানববন্ধনে সেই প্রত্যাশাই করা হয়েছে।