৩ এপ্রিল চলচ্চিত্র দিবস: এফডিসি উত্তপ্ত
মাননীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ও পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ডা. জাহেদ উর রহমানকে উদ্দেশ করে জাতীয়তাবাদী এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চলচ্চিত্র পরিষদের নেতৃত্ব বলেন, ৩ এপ্রিল “জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস” — একটি রাজনৈতিক প্রহসন। অবিলম্বে এই দিবস বাতিল করতে হবে।
আজ ২ এপ্রিল, ২০২৬ দুপুরে জাতীয়তাবাদী এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চলচ্চিত্র পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আজ দুপুরে বিএফডিসিতে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে চলচ্চিত্র পরিষদ বাতিলের দাবি বিএফডিসি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি যথাযথভাবে জানানো হয়।
চলচ্চিত্র পরিষদ বয়কট করার দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চলচ্চিত্র পরিষদের মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের একটা গৌরবময় ইতিহাস আছে। সেই ইতিহাসকে পাশ কাটিয়ে রাজনীতির মূলা ঝুলিয়ে তথাকথিত দলীয় অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের নামে ২০১২ সালে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার চালু করেছিল “জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস”। এটি মূলত মুজিব বন্দনা। কিন্তু প্রশ্ন হলো— এই দিবস কি সত্যিই চলচ্চিত্রের জন্য? নাকি শেখ মুজিবুর রহমান বন্দার আরেকটি রাষ্ট্রীয় আয়োজন? কী লাভ হলো চলচ্চিত্রের? চলচ্চিত্র শিল্প লোভী তোষামোদকররী চলচ্চিত্র খাদকদের খপ্পরে পড়ে আজ আইসিইউতে।
জাতীয়তাবাদী এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইফুর রহমান বলেন, ৩ এপ্রিল তারিখটি বেছে নেওয়া হয়েছে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। শিল্পের নামে দিবস, কিন্তু ভেতরে শুধু এক পরিবারের মহিমাকীর্তন। এভাবেই বছরের পর বছর রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, দিবস আর উৎসবকে ব্যবহার করা হয়েছে একটি দলের আদর্শ প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে।’
জাতীয়তাবাদী এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাইদুর রহমান বলেন ‘চলচ্চিত্র একটি স্বাধীন শিল্পমাধ্যম। এটি কোনো দলের সম্পত্তি নয়, কোনো পরিবারের উত্তরাধিকার নয়। চলচ্চিত্রের প্রকৃত সম্মান হোক শিল্পীদের মাধ্যমে, রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডার মোড়কে নয়।’
বক্তারা আরও বলেন তথাকথিত চলচ্চিত্র দিবস বয়কট করুন। রাজনৈতিক রং মেশানো প্রতিটি “দিবস”-এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্র যখন একটি পরিবারের স্তুতিতে পরিণত হয়, তখন প্রতিবাদই হলো দেশপ্রেম।
জাতীয়তাবাদী এমপ্লয়িজের এসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির দশজন সদস্য বিএফডিসি এমডি মাসুমা রহমান তানিকে চলচ্চিত্র দিবস পালন না করা জন্য দাবি জানালে, তিনি বলেন ‘আমি জেনেশুনেই উৎসব পালন করছি’।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মো. দেলোয়ার হোসেন পলক, নবীর হোসেন, ফারুক শিকদার, কামরুল, নজরুল ইসলামসহ নেতৃবৃন্দ।
বিএফডিসি এমডি মাসুমা রহমান তানিকে চলচ্চিত্র দিবস পালন না করা জন্য দাবি জানালে, তিনি বলেন ‘ আমি জেনেশুনেই উৎসব পালন করছি’।