1. info2@icrbd24.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@icrbd24.com : admin :
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ন

যমুনা পাড়ের সন্তান সাংবাদিক আতিফ রাসেল: মামলা যাকে ছোট করেনি, বরং ইতিহাস করেছে

সংবাদদাতা: icrbd24
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬

আই জামান চমক: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের মাটিতে সেদিন এক অদ্ভুত দৃশ্য ছিল। দুস্থ মানুষেরা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে — চোখে আশার আলো, হাতে কার্ড। সরকার তাদের জন্য চাল পাঠিয়েছে। দশ কেজি। কিন্তু বালতি থেকে হাত সরে যাওয়ার পর — পাল্লায় উঠলে সেই চাল হয়ে যায় সাড়ে আট কেজি। দেড় কেজি হাওয়া। গরিবের পেটের অংশ কে খেল? যমুনার বুকে জেগে ওঠা চরের সেই অসহায় মানুষগুলোর নীরব কান্নার জবাব কে দেবে?

এই চুরির দৃশ্য দেখে চুপ থাকেনি একটি তরুণ কলম। আতিফ রাসেল — যমুনা পাড়ের সন্তান, ‘বাংলা এডিশন’-এর সাহসী প্রতিনিধি — সরেজমিনে গিয়ে মানুষের আর্তনাদ কুড়িয়ে এনে পাঠকের সামনে রেখেছে। এটুকুই তার অপরাধ। আর সেই অপরাধে প্যানেল চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলাম ফকির তার বিরুদ্ধে দিয়েছেন মামলা।

চোরের মার বড় গলা — এই প্রবাদটি বাংলার মাটিতে এতবার সত্য হয়েছে যে, এখন আর অবাক লাগে না। তবুও লাগে — কারণ প্রতিবার এই মার খায় একজন সাহসী মানুষ।

আতিফ রাসেল শুধু আমার ভাগ্নে নয় — সে আমার চেনা সেই মানুষ, যে ঘরে বসে কপি সাজায় না। যমুনার মতোই সে খরস্রোতা — দুর্গম চরাঞ্চলে ছোটে, মধুপুরের গহিন গড়জঙ্গলে যায়, কাদা মাড়িয়ে পৌঁছায় সেই মানুষটির কাছে যার কথা কেউ বলতে চায় না। ছোটোবেলা থেকে দেখেছি — অন্যায় দেখলে তার ভেতরে কী এক আগুন জ্বলে ওঠে। সেই আগুনই আজ তাকে নিয়ে গেছে সাংবাদিকতার মহান পেশায়।

এনালগ আর ডিজিটালের এই সন্ধিক্ষণে সৎ সাংবাদিকতা চরম ঝুঁকির পথ। তবুও আতিফ রাসেল সেই পথেই হাঁটে — কলম, ক্যামেরা আর মাইক্রোফোনকে সঙ্গী করে। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, মাথা নত করো না হে। আতিফ সেই কথাটিকে রক্তে ধারণ করে।

আমার মনে পড়ে — দৈনিক টাঙ্গাইলপত্রে নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে যখন কাজ করতাম, তখন তৎকালীন এমপি আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় আমি সহ সকলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছিল। পত্রিকা বন্ধ, প্রেস বন্ধ। সেই কঠিন দিনে আব্বা ফোন করে বলেছিলেন — অন্যায় না করলে ঘাবড়াবে না। সত্যের জন্য জেলে যাও, ফাঁসিতে ঝুলো — আমি গর্ব করব।

আব্বার সেই কথাটিই আজ আতিফ রাসেলকে বলতে চাই।

টাঙ্গাইলের একটি পুরনো সংস্কৃতি আছে — সাংবাদিকের কণ্ঠরোধ করতে মামলার জাল বিছানো। সত্যকে দমানোর এই অপচেষ্টা নতুন নয়। কিন্তু ইতিহাস কখনো চাল চোর চেয়ারম্যানকে মনে রাখে না — ইতিহাস মনে রাখে আতিফ রাসেলদের নাম। যারা ক্ষমতার রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে থাকে সত্যের পাশে।

এই মামলা আতিফ রাসেলের জীবনে অভিশাপ নয় — এ এক আশীর্বাদ। এটি প্রমাণ করে সে সঠিক পথে আছে। এই মামলা তার পদক্ষেপ ধীর করবে না — বরং যমুনা যেমন বাধা পেলে নতুন খাত কেটে এগিয়ে যায়, আতিফ রাসেলও তেমনি বুক চিতিয়ে এগিয়ে যাবে সত্যানুসন্ধানে।

আতিফ রাসেলরা কখনো একা নয়। আমরা তার পাশে আছি — ছিলাম, থাকব। এমন দেশপ্রেমিক তরুণ সংবাদকর্মীর জন্য আমরা গর্বিত। আগামীর প্রজন্ম তাকে অনুসরণ করবে।

সত্যকে কখনো দাবিয়ে রাখা যায় না — যমুনার মতো সে পথ খুঁজে নেয়ই।

লেখক: সাংবাদিক, কবি, কথাসাহিত্যিক, আবৃত্তিকার ও বাচিক শিল্পী। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839।

Please Share This Post in Your Social Media

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2013- 2026