দেবীগঞ্জ থানার বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা তার নতুন কর্মস্থল কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানায় যোগদানের আগে দেবীগঞ্জের মাটি থেকে যে বিদায় নিলেন, তা শুধু এক অফিসারের বদলি নয়, বরং সম্পর্কের এক মানবিক দলিল। শনিবার রাতে কর্মস্থল ছাড়ার শেষ মুহূর্তে তাঁর মুখে ছিল শুধু কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসা।
২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর দেবীগঞ্জ থানায় যোগদানের প্রথম দিন থেকেই ওসি সোয়েল রানা শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা নয়, বরং মানুষ এবং গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে একটি অদৃশ্য সেতুর নির্মাণ শুরু করেছিলেন। প্রশাসনের কাজ ও গণমাধ্যমের অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টির মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই যে দূরত্ব তৈরি হয়, তাঁর আন্তরিকতা এবং সহযোগিতার মনোভাবে সেই দূরত্ব কখনও দেয়াল হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। তিনি ছিলেন গণমাধ্যম-বান্ধব একজন কর্মকর্তা।
বিদায়কালে, তাঁর স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে পেশাগত গণ্ডির বাইরে গড়ে ওঠা গভীর বন্ধুত্ব ও সহমর্মিতার প্রতিচ্ছবি। সাংবাদিকরা তাঁর কাছে কেবল নিউজের উৎস ছিলেন না, ছিলেন একান্ত সহযোগী ও বন্ধু। তাঁর দায়িত্বনিষ্ঠ আচরণ এবং আন্তরিক মনোভাব কেবল সহকর্মীদের মধ্যেই নয়, স্থানীয় মানুষের মধ্যেও গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সৃষ্টি করেছে। তিনি কেবল রুটিন মাফিক কাজ করে যাননি, দেবীগঞ্জ থানার অবকাঠামোগত উন্নয়নেও তাঁর বিশেষ অবদান অনস্বীকার্য।
ওসি সোয়েল রানার বিদায় রজনী ছিল আবেগময়। গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমার বিদায়ের এই শেষ রজনীতে, আমি আপনাদের সকলের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানাতে চাই।” অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তিনি যোগ করেন, কর্মজীবনে যদি কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকে, অথবা কাজে কখনো কারও মন খারাপ হয়ে থাকে, তার জন্য তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।
তিনি স্বীকার করেন, “হয়তো কর্মক্ষেত্রে আমি সব সময় সবার প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ করতে পারিনি, আবার কেউ কেউ আমার আচরণ ভুলভাবে বোঝারও সুযোগ পেতে পারেন।” তবে তাঁর মূল বার্তা ছিল গভীর থেকে উৎসারিত, “অন্তরের গভীর স্থান থেকে আমি আপনাদের সকলের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করছি।”
দেবীগঞ্জ থানায় অনেক কর্মকর্তাই আসবেন, আবার চলেও যাবেন। সম্পর্ক তৈরি হবে, আবার সময়ের স্রোতে হয়তো তা ফিকে হয়েও যাবে। কিন্তু ব্যতিক্রমী কর্মকর্তা হিসেবে ওসি সোয়েল রানা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যে আন্তরিকতার উষ্ণতা ছড়িয়ে গেলেন, তা দেবীগঞ্জবাসীর স্মৃতিতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিদায়ের এই মুহূর্তে তিনি কেবল একটি অনুরোধই করে গেলেন— “আপনাদের ক্ষমাশীল দৃষ্টিতে যদি আমার সব ভুলত্রুটি মাফ করা হয়, আমি চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকব।”

কর্মজীবনের এক অধ্যায় শেষ হলেও, তাঁর এই মানবিক ও বিনয়ী বিদায় বার্তা প্রমাণ করে— ভালো কাজ হয়তো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ম্লান হতে পারে, কিন্তু আন্তরিক সম্পর্ক আর ভালোবাসা কখনোই ভোলা যায় না। দেবীগঞ্জের মানুষ তাঁকে ভুলে যাবেন না।