পঞ্চগড়ের সাধারণ কৃষক আর কৃষিনির্ভর অর্থনীতির কথা ভেবে একাট্টা হয়েছেন স্থানীয় সার ডিলাররা। সার ডিলার নিয়োগ এবং সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের চত্বর। বুধবার দুপুরে বিএডিসি বীজ ও সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশন, পঞ্চগড় জেলা শাখার ব্যানারে আয়োজিত এই মানববন্ধনে অংশ নেন জেলার শত শত ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা। তীব্র রোদে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচিতে বক্তাদের কণ্ঠে উঠে আসে বর্তমান কৃষি ব্যবস্থার সংকট এবং সরকারের নতুন নীতিমালার প্রয়োজনীয়তার কথা।
মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে বক্তারা অত্যন্ত আবেগ এবং যুক্তির সাথে তুলে ধরেন যে, বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড হলো কৃষি। আর এই কৃষিকে সচল রাখতে রাসায়নিক সারের কোনো বিকল্প নেই। সময়মতো সঠিক সারের সরবরাহ না থাকলে কৃষকের হাড়ভাঙা খাটুনি আর স্বপ্ন—দুটোই নষ্ট হয়ে যায়। তাই কৃষকের দোরগোড়ায় ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছে দেয়া এখন সময়ের দাবি। সরকার ইতোমধ্যে সার বিষয়ক জাতীয় সমন্বয় ও পরামর্শ কমিটির অনুমোদনক্রমে ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা ২০২৫’ প্রণয়ন করেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, সেই নীতিমালা কাগজে-কলমে থাকলেও মাঠ পর্যায়ে এখনো তার সুফল পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ।
বিএডিসি বীজ ও সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি আসাদুজ্জামান হক প্রধান তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার মনিটরিং ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে হবে এবং অবিলম্বে প্রণীত নীতিমালা অনুযায়ী ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ কার্যক্রম শুরু করতে হবে। সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী বকুল এবং আবু নাহিদ লাবুসহ অন্যান্য বক্তারাও একই সুরে সুর মিলিয়ে বলেন, সারের বাজারের স্বচ্ছতা ফেরাতে এই নীতিমালা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি দ্রুত এই দাবি মেনে নেয়া না হয়, তবে পঞ্চগড়ের কৃষি ও কৃষকের স্বার্থে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বিএডিসি বীজ ও সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সর্বস্তরের সদস্যরা উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন। ডিলারদের দাবি, অবিলম্বে এই স্বচ্ছ নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে সারের কালোবাজারি কমবে এবং কৃষক সরাসরি উপকৃত হবে।