পঞ্চগড় জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শুক্রবার রাতের সেই কালবৈশাখী ঝড় যেন এক অভিশপ্ত রাত হয়ে এলো শত শত কৃষকের জীবনে। আকস্মিক এই ঝড় আর সাথে দানবীয় শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে মুহূর্তের মধ্যেই লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে আবাদি ফসল আর মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই। উত্তরের এই জনপদে এখন শুধুই হাহাকার আর ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন। বিশেষ করে আটোয়ারী, বোদা এবং সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঝড়ের যে তাণ্ডব দেখা গেছে, তা দেখে স্থানীয় মানুষের চোখ ভিজে উঠছে বারবার। ঝোড়ো হাওয়ায় উপড়ে পড়েছে বড় বড় গাছ, ডালপালা ভেঙে পড়ে চলাচলের পথ হয়ে গেছে রুদ্ধ। জনজীবন থমকে গেছে এক অজানা আতঙ্কে।
সবচেয়ে বড় আঘাত লেগেছে কৃষকের ফসলের মাঠে। যে স্বপ্ন নিয়ে তারা দিনরাত ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলিয়েছিলেন, সেই স্বপ্ন এখন মাটির সাথে মিশে আছে। আটোয়ারী উপজেলার ধামোর, বলরামপুর ও তোড়েয়া এলাকা এবং বোদা উপজেলার ঝলইশালশিরি, ময়দানদিঘী, বেংহারী ও চন্দনবাড়ির মাঠগুলো এখন বিরান ভূমি। বাদ যায়নি সদর উপজেলার মাগুড়া ও ঝলই ইউনিয়নও। চলতি মৌসুমের প্রধান ফসল যেমন বেগুন, মরিচ আর বিস্তীর্ণ ভুট্টাক্ষেত এক রাতেই শেষ হয়ে গেছে। পাকার অপেক্ষায় থাকা সোনালী গমগুলো ঝোড়ো হাওয়ায় নুয়ে পড়ে বিলীন হয়েছে মাটির সাথে। ফসলের এই মরণ কামড়ে কৃষকের চোখে এখন শুধুই অন্ধকার। অনেক হতদরিদ্র পরিবার তাদের টিনের ঘরটুকুও রক্ষা করতে পারেনি; শিলাবৃষ্টিতে ঘরের চাল ফুটো হয়ে গেছে, আবার অনেকের ঘর ধসে পড়েছে বাতাসের তীব্রতায়।

বিপর্যস্ত এই মানুষের পাশে দাঁড়াতে শনিবার সকালেই মাঠে নেমেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। প্রতিমন্ত্রী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছে যান, তাদের কষ্টের কথা শোনেন এবং ভেঙে পড়া ঘরবাড়িগুলো পরিদর্শন করেন। কৃষকদের সান্ত্বনা দিয়ে তিনি বলেন যে, কৃষি বিভাগকে দ্রুত মাঠপর্যায়ে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা বা সহায়তা দেওয়ার সুযোগ থাকলে তা অবশ্যই এই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পৌঁছে দেওয়া হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। তবে প্রতিমন্ত্রীর এই আশ্বাসের মাঝেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মনে কাটছে না অনিশ্চয়তার মেঘ। সহায়-সম্বল হারিয়ে তারা এখন তাকিয়ে আছেন দ্রুত সরকারি সাহায্যের দিকে, যাতে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পান তারা।