পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় অতিরিক্ত দামে জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুই মুদি দোকান ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সবুজ কুমার বসাক।
মঙ্গলবার ২৪ মার্চ দুপুরে জানা যায়, উপজেলার চেংঠী হাজরাডাঙ্গা ইউনিয়ন বাজারের একটি মুদি দোকানে প্রতি লিটার পেট্রোল ও অকটেন ২৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অপরাধে ফয়জলপাড়া এলাকার শফিউল ইসলামের ছেলে মো. নাজমুল হোসেন (৩৮)-কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
অভিযান চলাকালে উপস্থিত স্থানীয় জনগণের সামনে ন্যায্য মূল্যে পেট্রোল বিক্রি নিশ্চিত করা হয় এবং অতিরিক্ত দামে কেনা গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত দোকানদার অতিরিক্ত দামে পেট্রোল বিক্রির পাশাপাশি মজুদ রেখে পরিচিত ক্রেতাদের কাছে তা বিক্রি করতেন এবং সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতেন।

একই দিনে চেংঠী ইউনিয়নের নতুনহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স রুকুমণি ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিক মোঃ রেজাউল ইসলামকে অতিরিক্ত দামে ডিজেল বিক্রির দায়ে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানের সময় নতুনহাটের একটি মিনি পেট্রোল পাম্পের মালিক আলামিন উপস্থিতি টের পেয়ে দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যান। পরে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে দোকানে জ্বালানি মজুদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। পাশাপাশি গ্রাম পুলিশকে দোকানটি নজরদারিতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযানে দেবীগঞ্জ উপজেলা অফিসের সার্টিফিকেট সহকারী সুজন্ত কুমার রায়সহ থানা পুলিশের একটি টিম উপস্থিত ছিল।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সবুজ কুমার বসাক বলেন, এই উপজেলায় কোনো দোকান বা পেট্রোল পাম্পে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রি করা হলে সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।
দেবীগঞ্জে খোলা বাজারে তেল পাওয়া গেলেও পেট্রোল পাম্পগুলোতে গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। মোটরসাইকেল, দূরপাল্লার যানবাহন, হালচাষের মহেন্দ্রসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন জ্বালানি তেলের অপেক্ষায় রয়েছে। তেল সংকটের কারণে পাম্প মালিকদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। তেল আসলেও ক্রেতাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।