পঞ্চগড়ের দিগন্তজোড়া সবুজ চা-বাগানের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক ব্যবসায়িক প্রতারণা আর অসহায়ত্বের গল্প নিয়ে সামনে এসেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সাব্বির হোসেন। তিলে তিলে জমানো ১৫ লাখ টাকা একটি চা-বাগানে বিনিয়োগ করে এখন তিনি কেবল নিজের পুঁজি হারোনোর শঙ্কাই করছেন না, বরং জীবন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে না পড়লেও তার কণ্ঠে ছিল পাওনা টাকা ফিরে পাওয়ার আকুতি আর প্রশাসনের প্রতি জোরালো আরজি।
সংবাদ সম্মেলনে সাব্বির হোসেন অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে জানান, ২০২৩ সালে একটি চুক্তির মাধ্যমে ১০ বিঘা জমির একটি চা-বাগান তিন বছরের জন্য বন্ধক নিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় বাগানের মালিককে নগদ ১৫ লাখ টাকা বুঝিয়ে দিয়ে তিনি আশায় বুক বেঁধেছিলেন যে, এই বাগান থেকে উৎপাদিত চা-পাতা দিয়ে তার ব্যবসার প্রসার ঘটবে। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে এলেও বাগানের মালিক তার পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছে ১৫ লাখ টাকা কতটা মূল্যবান, তা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এই টাকা ফেরত পেতে তিনি বারবার বাগান মালিকের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু পাওনা টাকা পরিশোধের পরিবর্তে উল্টো তাকে নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী এই ব্যবসায়ীর অভিযোগ আরও গুরুতর। তিনি জানান, পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় তাকে বাগান থেকে চা-পাতা তুলতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন সময় প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে হুমকি-ধামকি প্রদান করা হচ্ছে। বর্তমানে তিনি নিজের বিনিয়োগ করা অর্থ এবং নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। নিরুপায় হয়ে সাব্বির হোসেন ইতোমধ্যে পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে তিনি তার কষ্টের উপার্জিত অর্থ ফিরে পেতে পারেন এবং নির্বিঘ্নে নিজের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন। একটি স্বচ্ছ ব্যবসায়িক পরিবেশে এমন হুমকি আর প্রতারণা তাকে মানসিকভাবে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।