• বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বীরগঞ্জে মোটরসাইকেলসহ কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী হাশেম গ্রেফতার, ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার হারিয়ে যাচ্ছে শিল্পী পাখি বাবুই, করতোয়া তীরের কিচিরমিচিরে লুকিয়ে থাকা এক বুক আর্তি সরকারের তোষামোদ নয়, সত্যকে সত্য হিসেবেই জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে: গণমাধ্যমকে প্রধানমন্ত্রী গংগাচড়ার বেতগাড়ী একরামিয়া ফাজিল মাদরাসার নতুন সভাপতি সহিদুল ইসলাম ও বিদ্যোৎসাহী প্রতিনিধি আহসান হাবিব বেতগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত বেতগাড়ী হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত শব্দের অন্তরাল থেকে আলোর অভিযাত্রা : কবি পারুল আক্তার পান্নার কাব্যভুবন ডোমার কেতকীবাড়ীতে চলাচলের রাস্তা বন্ধের জেরে বাবা ও ছেলেকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ ১২ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মরুর বুকে জিয়া গাছ: আরাফাতে কোটি হাজীদের ছায়া দেয়

আই জামান চমক, ঢাকা
শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬

আই জামান চমক: আরাফাতের ময়দান। উত্তাপ এখানে শুধু আবহাওয়ার নয়, ইতিহাসেরও। লক্ষ লক্ষ হাজি যখন সেই পবিত্র মাটিতে দাঁড়িয়ে রবের দরবারে হাত তোলেন, তখন মাথার ওপর যে গাছের পাতারা ছায়া দেয়, তাদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি দেশের নাম, একটি নেতার স্মৃতি। বিশ্বের কোটি মুসলমান হয়তো জানেন না, সেই নিমগাছগুলো ‘জিয়া গাছ’ নামে পরিচিত — বাংলাদেশের এক রাষ্ট্রনায়কের মানবিকতার জীবন্ত স্বাক্ষর।

আজ ৩০ মে। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে শহীদ হন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁর শাহাদাতের এত বছর পরও তিনি বেঁচে আছেন মরুর বুকে — সবুজ পাতায়, দীর্ঘ ছায়ায়, লক্ষ হাজির অজান্তে পাওয়া প্রশান্তির ভেতরে।

সেই ৮০’র দশকের কথা। আরাফাতের ময়দানে প্রখর রোদে হাজিদের কষ্ট দেখে ব্যথিত হয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। একজন রাষ্ট্রনায়কের হৃদয়ে তখন কেবল কূটনীতির হিসাব নয়, ছিল মানুষের প্রতি গভীর মমতা। তাঁর উদ্যোগে বাংলাদেশ থেকে নিমগাছের চারা পাঠানো হয়েছিল সৌদি আরবে। সেই গাছ রোপণ করা হয়েছিল আরাফাতের পবিত্র ভূমিতে — যেন বাংলাদেশের মাটির উপহার পৌঁছে যায় বিশ্বের মুসলমানের কাছে।

আজ সেই গাছগুলো সুবিশাল। তাদের ছায়ায় প্রতি বছর বিশ্রাম নেন আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকার হাজিরা। তাঁরা জানেন না কার হাতে এই ছায়ার আয়োজন হয়েছিল। কিন্তু প্রকৃতি জানে। ইতিহাস জানে। এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ সেই কৃতজ্ঞতার স্বীকৃতিস্বরূপ গাছগুলোর নাম রেখেছে ‘জিয়া গাছ।’

মহানবী (সা.) বলেছেন, মানুষের মৃত্যুর পর তিনটি আমল ছাড়া সব বন্ধ হয়ে যায় — সদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান এবং নেক সন্তানের দোয়া। আরাফাতের প্রতিটি নিমগাছ যেন সেই সদকায়ে জারিয়ার এক দৃশ্যমান রূপ। প্রতিটি হাজি যখন সেই ছায়ায় দাঁড়িয়ে দোয়া করেন, তখন অজান্তেই যেন একজন শহীদ রাষ্ট্রনায়কের আত্মার জন্য কল্যাণের ধারা প্রবাহিত হয়।

বিশ্ব উম্মাহর কাছে বাংলাদেশের পরিচিতি অনেক মাত্রায়। কিন্তু আরাফাতের ময়দানে ‘জিয়া গাছ’ সেই পরিচিতিকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র সমাবেশে একটি ছোট দেশের নাম যখন কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উচ্চারিত হয়, তখন তা কেবল কূটনৈতিক অর্জন নয় — এটি একটি জাতির আত্মার পরিচয়। জিয়াউর রহমান বুঝেছিলেন, রাষ্ট্রের সম্মান কেবল সামরিক শক্তিতে নয়, মানবিক কাজেও প্রতিষ্ঠিত হয়।

আজ তাঁর শাহাদাতবার্ষিকীতে আমরা স্মরণ করি একজন মুক্তিযোদ্ধাকে, একজন রাষ্ট্রনির্মাতাকে এবং একজন মানবিক নেতাকে — যিনি তাঁর দেশের সীমানার বাইরেও মানুষের কষ্ট অনুভব করেছিলেন। আরাফাতের মাটিতে যে গাছগুলো আজও দাঁড়িয়ে, তারা কোনো ভাষণ দেয় না, কোনো দাবি করে না। শুধু ছায়া দেয়। আর সেই ছায়াই হয়তো সবচেয়ে বড় রাজনীতি — মানুষের ভালোবাসার রাজনীতি।

শহীদ জিয়া, আপনাকে সালাম।

লেখক: সাংবাদিক, কবি, কথাসাহিত্যিক, আবৃত্তিকার ও বাচিক শিল্পী। হোয়াটসঅ্যাপ: 01718456839


More News Of This Category